ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে করবেন?

ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে করবেন?

যে কোনো ব্যবসা করতে হলে যে আইনগত বিষয়টি সবার আগে সামনে আসে তা হল ট্রেড লাইসেন্স। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। ১৯৮৬ সালের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ট্যাক্সেশন বিধিমালার ৪৪(১) বিধি অনুসারে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। বলতে গেলে সব ব্যবসা ও স্বাধীন পেশার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। এমনকি ফুটপাতে বসে যিনি ফল কিংবা টঙ এর দোকানে চা বিক্রি করবেন তারও লাইসেন্স দরকার। তাই যেই ব্যবসাই করুন না কেন ট্রেড লাইসেন্স অবশ্যই করতে হবে।

যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো ব্যবসার আইনগত বৈধতার জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন। লাইসেন্সটা থাকলে বিপদে আপদে কাজে লাগবে।যেখানে আপনার অফিস বা ব্যবসার ঠিকানা শুধু সেখানেই ট্রেড লাইসেন্স নেবেন। তবে ঢাকায় যদি আরেকটা অফিস নেন। তখন এখানে আরেকটা ট্রেড লাইসেন্স এর প্রশ্ন আসবে। কিন্তু ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স কোনো বাঁধা নয়। গ্রামে কিন্তু খুব অল্প টাকা দিয়েও ট্রেড লাইসেন্স করা যায়।

সাধারণত সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা বা জেলা পরিষদ এই লাইসেন্স প্রদান করে থাকে। ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহারযোগ্য নয়।

ট্রেড লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন ?

ট্রেড লাইসেন্স হলো স্থানীয় সরকার কতৃক প্রদত্ত ব্যবসার লাইসেন্স। ব্যবসার প্রথম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স। ট্রেড মানে হচ্ছে ব্যবসা আর লাইসেন্স মানে হচ্ছে অনুমতি অর্থাৎ ট্রেড লাইসেন্স মানে হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র। এই লাইসেন্স উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এমন অনেক সফল উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী আছেন যারা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করছেন কিন্তু এটা সম্পুর্ণ অবৈধ এবং আইন বিরোধি । এই ট্রেড লাইসেন্স বাংলাদেশ সরকার সিটি কর্পোরেশন কর বিধান – ১৯৮৩ (City Corporation Taxation Rules, 1983) এর অধিনে ইস্যু করে থাকে । যেহেতু এই ট্রেড লাইসেন্স সরকারী প্রতিষ্ঠান হতে ইস্যু করা হয় তাই আপনার ব্যবসার বৈধতার প্রতিক হচ্ছে এই ট্রেড লাইসেন্স ।

কোন জায়গা/প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয় ?

সিটি করর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। আপনি সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভায় গিয়ে ট্রেড লাইসেন্স বানাতে পারেন। যে অঞ্চলে ব্যবসা করবেন, সেই অঞ্চলের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন) এর কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।

ঢাকায় কীভাবে আবেদন করবেন?

ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) তার নাগরিকদের সেবা দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনকে কতগুলো অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চল রয়েছে। আপনার প্রতিষ্ঠানটি যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, ওই অঞ্চলের অফিস থেকেই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। ট্রেড লাইসেন্সের জন্য সিটি করপোরেশনের দুই ধরনের ফরম রয়েছে। আপনি যে ধরনের ব্যবসা করছেন বা করতে ইচ্ছুক, তার ওপর ভিত্তি করে ফরম নেবেন। ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবি জমা দিয়ে মূল ট্রেড লাইসেন্স বই সংগ্রহ করতে হবে। সিটি করপোরেশনের দ্বারা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তদন্ত হতে পারে এবং এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাইসেন্স ফি পরিশোধের মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

কারা ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবেন ?

নারী, পুরুষ উভয়ই ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে তবে অবশ্যই তাকে কোন না কোন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে হবে । বয়স ১৮ বছর এর উপরে হতে হবে ।
ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য দুটি ভিন্ন ধরনের ফরম রয়েছে। ফরমগুলো ‘আই ফরম’ ও ‘কে ফরম’ নামে চিহ্নিত প্রতিটি ফরমের দাম ১০ টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি ছোট বা সাধারণ হয়, তবে ‘ফরম আই’ আর বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে ‘কে ফরম’ নিতে হয়। আপনার প্রতিষ্ঠানটি যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, ওই অঞ্চলের অফিস থেকেই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স করতে কত টাকা ও কত দিন লাগে?
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর – ১ শাখা হতে বিশেষ প্রজ্ঞাপন এর মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি নির্ধারন করা হয় । ব্যবসার ধরন এর উপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর ফি নির্ধারন করা হয়ে থাকে । লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে কমবেশি হতে পারে। এই ফি সংশ্লিষ্ট অফিসে রসিদের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। লাইসেন্স ফি সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। একটি লাইসেন্স পেতে তিন থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।

প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন
ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করলে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের একটি নাম প্রস্তাব করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তখন দেখেন ওই নাম কাউকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা? বরাদ্দ দেয়া না হয়ে থাকলে ওই নামে লাইসেন্স দেয়া হয়। ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরমে দেয়া তথ্যগুলো প্রদান করতে হয়।

ট্রেড লাইসেন্স করতে কি কি লাগে ?

• ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্থানটি নিজের হলে সিটি করপোরেশনের হালনাগাদ করের রশিদ এবং ভাড়ায় হলে ভাড়ার চুক্তিনামা বা রশিদ আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

• আবেদনপত্রের সঙ্গে তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে।

• জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি

• TIN সার্টিফিকেট

• বাড়ির ইউটিলিটি বিলের কপি

• যে বাড়ীতে ব্যবসায় পরিচালনা করছেন তার হোল্ডিং ট্যাক্স হালনাগাদ করণের রশিদ

• প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি লিমিটেড হলে মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস ও সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন দিতে হবে। আর পার্টনারশিপ ব্যবসার ক্ষেত্রে পার্টনারশিপ ডিডের কপি দিতে হবে।

• যদি কারখানা দিতে চান; প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান, কারখানা বা কোম্পানির পার্শ্ববর্তী অবস্থান বা স্থাপনার নকশাসহ ওই স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামাও দাখিল করতে হবে।

এসব ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যেমন-

• সাধারণ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজের দোকান হলে ইউটিলিটি বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি। আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

• ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ২০০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পার্টনার শিপের অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলী জমা দিতে হবে।

• অস্ত্র ও গোলাবারুদের ক্ষেত্রে অস্ত্রের লাইসেন্স।

• ওষুধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে ড্রাগ লাইসেন্সের কপি।

• শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওপরের সব দলিলের সঙ্গে পরিবেশসংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র, প্রতিষ্ঠানের অবস্থান চিহ্নিত মানচিত্র ও অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতিসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

• ক্লিনিক/প্রাইভেট হাসপাতালের ক্ষেত্রে ডিরেক্টর জেনারেল স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক অনুমতিপত্র।

• প্রিন্টিং প্রেস/ছাপাখানা ও আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক অনুমতিপত্র।

• রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মানবসম্পদ রপ্তানি ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স।

• ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে সিভিল এ্যাভিয়েশনের অনুমতিপত্র।

• সিএনজি স্টেশন বা দাহ্য পদার্থের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তর বা ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।

• ফ্যাক্টরি/কারখানার ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পরিবেশের ছাড়পত্রের কপি। প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পার্শ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা/লোকেশন ম্যাপ। প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পার্শ^বর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা। ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম-কানুন মেনে চলার অঙ্গীকারনামা ১৫০/৩০০ টাকার জুডিশিয়ার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরিত।

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নানা কাজে লাগে এই লাইসেন্স। যেমন-
• ব্যাংক ঋণ নিতে।
• ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খুলতে। ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব দিয়ে আপনি ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবেন না।
• ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবসায়ীর বিদেশে যেতে হলে।
• কোনো ব্যবসায়িক এসোসিয়েশন এর সদস্য হতে হলে।
• এছাড়া ভ্যাট ও টিন এর জন্যও ট্রেড লাইসেন্স অপরিহার্য।

প্রয়োজনে নাম ঠিকানা পরিবর্তন
ফি প্রদান ও এফিডেভিটের মাধ্যমে যে কোনো তথ্য পরিবর্তন করা যায়। তবে এক অর্থবছরে ব্যবসায়িক ঠিকানা ABC থেকে CBA এ বা বিপরীতে পরিবর্তন হলে ঠিকানা পরিবর্তন করা যায় না। সেক্ষেত্রে নতুন অর্থবছরে নতুন ঠিকানা সহ নতুন লাইসেন্স করে নিতে হবে। যদি একই সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তিত হয় তাহলে যে কোন সময়ই তা পরিবর্তন করা যাবে।

একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কি বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করা যায় ?

এক ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কাছাকাছি ক্যাটাগরির ভিন্ন ব্যবসা করা যায়, তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্সে ভিন্ন ক্যাটাগরি যোগ করতে হবে এবং সেই ক্যাটাগরির লাইসেন্স ফি যোগ করতে হবে। যেমন আপনি IT ক্যাটাগরি দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে পরবর্তীতে Software ক্যাটাগরি যোগ করতে পারবেন ফি প্রদান সাপেক্ষে। বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স IT বা Software ক্যাটাগরি দিয়ে করা হয়। তবে কাছাকাছি ক্যাটাগরির ব্যবসা না হলে অবশ্যই সেই ব্যবসার আলাদা ট্রেড লাইসেন্স করে নিতে হবে।
একটি ট্রেড লাইসেন্স এর অধীনে বিভিন্ন রকমের পণ্য বিক্রি করা যায়। সেক্ষেত্রে ক্যাটাগরি হবে জেনারেল সাপ্লায়ার।

Trade License, E Trade License

ই- কমার্স ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স

আমাদের ব্যবসায়িক তালিকায় এখনো ই কমার্স যুক্ত হয়নি। শুধুমাত্র এই ক্যাটাগরিতে এখনো ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়না। তবে IT বা Software ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স নেয়া যেতে পারে। এজন্য IT বা Software এর লাইসেন্স ফি ৫০০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ যেমন সাইনবোর্ড ট্যাক্স, নতুন বই খরচ, ১৫% ভ্যাট সহ ৭ হাজার টাকার মত খরচ পরে।

লাইসেন্স নবায়ন

লাইসেন্স নবায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। একটি লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর এবং এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
• পূর্বের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
• দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক কর বিষয়ক কর্মকর্তা নবায়নকৃত ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করবেন।
• লাইসেন্স নবায়ন ফি নতুন লাইসেন্সের সমপরিমাণ। এই ফি আগের মতোই লাইসেন্স ফরমে উল্লিখিত ব্যাংকে প্রদান করতে হয়।

লাইসেন্স বাতিল

মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে, লাইসেন্সে উল্লিখিত শর্তাবলি এবং সিটি করপোরেশনের আইন ও বিধি মেনে না চললে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া লাইসেন্স গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে গ্রহীতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

আইনগত বিধিমালা

একটি ট্রেড লাইসেন্স একাধিক ব্যবসায় ব্যবহার করা যায় না। একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু একটি ব্যবসার জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয় শুধু সেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে অন্য কোনো ধরনের ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করলে তার জন্য নতুন ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে।

একটি ট্রেড লাইসেন্স একাধিক ব্যক্তিও ব্যবহার করতে পারবেন না। একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু একজন ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তা ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তার নামে ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয়েছে এটি শুধু তার জন্যই প্রযোজ্য। এটা কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়।

মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে, লাইসেন্সে উল্লিখিত শর্তাবলি এবং সিটি করপোরেশনের আইন ও বিধি মেনে না চললে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া লাইসেন্স গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে গ্রহীতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

সংযুক্ত তথ্যাদি সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যেকোন সরকারী সিদ্ধান্তের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজনের কারণে এই তথ্যগুলো অকার্যকর বিবেচিত হতে পারে।

আরো জানতে যোগাযোগ করতে পারেন 01716020373

ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন যেভাবে?
ই-পাসপোর্ট E Passport

ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে প্রথমে (www.epassport.gov.bd) এই ওয়েবসাইটে লগ ইন করতে হবে। ওয়েবসাইটে ঢুকে ডিরেক্টলি টু অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনে (Directly to online application) ক্লিক করতে হবে।

প্রথম ধাপে বর্তমান ঠিকানার জেলা শহরের নাম ও থানার নাম নির্বাচন করে ক্লিক করতে হবে। পরের ধাপে ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত ই-পাসপোর্টের মূল ফরমটি পূরণ করে সাবমিট করতে হবে। তৃতীয় ধাপে মেয়াদ ও পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা অনুযায়ী ফি জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে যে কোনো ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে।

এছাড়াও যদি অধিদফতরের অনুমোদিত পাঁচ ব্যাংকের যে কোনো একটিতে টাকা জমা দিয়ে সেই জমা স্লিপের নম্বর এখানে দিতে হবে। এরপর ফাইল সাবমিট করতে হবে। এর ফলে আপনার তথ্যগুলো পাসপোর্টের কার্যালয়ের সার্ভারে চলে যাবে। পরবর্তী ধাপে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদানের জন্য পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে।

শেষ ধাপে ই-পাসপোর্ট প্রস্তুতের পর আবেদনকারীকে জানানো হবে৷ আবেদনকারী নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হয়ে ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করবেন।

কাগজের ফরম জমা
পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্টের কাগজের ফরম নিয়ে পূরণ করে জমা দিলেও মিলবে ই-পাসপোর্ট। কাগজের ফরমে আবেদনকারীর ৮৭ ধরনের তথ্য চাওয়া হবে। এমআরপি থেকে এই ফরম কিছুটা আলাদা। এই ফরমে পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বছর অথবা ১০ বছর) ও পাসপোর্টের পাতার সংখ্যা (৪৮ অথবা ৬৪) ইত্যাদি তথ্য জানতে চাওয়া হবে।

এছাড়াও দুদিনের মধ্যে অতি জরুরী পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে আবেদনকারীকে নিজ উদ্যোগে আগেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আনতে হবে। এক্ষেত্রে পাসপোর্টের ফরমে প্রি-পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর নম্বর ফরমে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনের সময় জমা দিতে হবে ক্লিয়ারেন্সের কপি।

পাসপোর্ট অফিসে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে :

১। আবেদনপত্রের সারংশের প্রিন্ট কপি (অ্যাপয়েন্টমেন্ট সহ)

২। সনাক্তকরণ নথির প্রিন্ট কপি (জাতীয় পরিচয় পত্র/ জন্ম নিবন্ধন নং)

৩। পেমেন্ট স্লিপ 

৪। পূর্ববর্তী পাসপোর্ট এবং ডাটা পেজের প্রিন্ট কপি (যদি থাকে)

৫। তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যদি থাকে)

৬। আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি (ঐচ্ছিক ) 

এছাড়াও ১৮-এর কমবয়সীদের জন্য জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট, বাবা-মায়ের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

ই-পাসপোর্টের মেয়াদ, ফি ও সময় কত?
ই-পাসপোর্ট E Passport

ই-পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে করার সময় এর ফি পরিশোধ করা যাবে। পাসপোর্ট ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করা হবে। বাংলাদেশে থাকা পাসপোর্ট অফিসের আবেদন জমা দেয়ার ক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে।

অনলাইন পেমেন্ট ছাড়াও ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকের মাধ্যমেও পাসপোর্ট ফি জমা দেয়া যাবে।

ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ফি হলো:

৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
  • ১৫ কর্মদিবস /২১ দিনের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ: ৪,০২৫ টাকা
  • ৭ কর্মদিবস / ১০ দিনের মধ্যে জরুরী বিতরণ: ৬,৩২৫ টাকা 
  • ২ কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরী বিতরণ: ৮,৬২৫ টাকা 
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
  • ১৫ কর্মদিবস /২১ দিনের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ: ৫,৭৫০ টাকা
  • ৭ কর্মদিবস / ১০ দিনের মধ্যে  জরুরী বিতরণ: ৮,০৫০ টাকা
  • ২ কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরী বিতরণ: ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
  • ১৫ কর্মদিবস /২১ দিনের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ: ৬,৩২৫ টাকা
  • ৭ কর্মদিবস / ১০ দিনের মধ্যে জরুরী বিতরণ: ৮,৬২৫ টাকা
  • ২ কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরী বিতরণ: ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
  • ১৫ কর্মদিবস /২১ দিনের মধ্যে নিয়মিত বিতরণ: ৮,০৫০ টাকা
  • ৭ কর্মদিবস / ১০ দিনের মধ্যে জরুরী বিতরণ: ১০,৩৫০ টাকা
  • ২ কর্মদিবসের মধ্যে অতীব জরুরী বিতরণ: ১৩,৮০০ টাকা

বি:দ্র: যাদের এনওসি /অবসর সনদ (সরকারি চাকরিজীবিদের ক্ষেত্রে) রয়েছে তারা নিয়মিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে জরুরী সুবিধা পাবেন।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা কী?
ই-পাসপোর্ট E Passport

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান বলছেন, এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যে, খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ই-গেট ব্যবহার করে তারা যাতায়াত করবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমে দ্রুত তাদের ইমিগ্রেশন হয়ে যাবে।

তবে যখন একজন ভ্রমণকারী ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাতায়াত করবেন, সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেন্দ্রীয় তথ্যাগারের (পাবলিক কি ডাইরেক্টরি-পিকেডি) সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবে।

ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন।

তবে কোন গরমিল থাকলে লালবাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করবেন।

কারো বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এই পিকেডি পরিচালনা করে। ফলে ইন্টারপোলসহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারে।

এখানে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় এ ধরণের পাসপোর্ট জাল করা সহজ নয় বলে তিনি জানান।

ই-পাসপোর্টের অতীব জরুরী আবেদন।
ই-পাসপোর্ট E Passport
অতীব জরুরী পাসপোর্ট সেবা কি?

কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকদের অতীব জরুরী (খুব কম সময়ের মধ্যে) পাসপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত ও ফি পরিশোধ সাপেক্ষে অতীব জরুরী পাসপোর্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

অতীব জরুরী পাসপোর্ট ডেলিভারি কত দিনে পাওয়া যাবে ?

অতীব জরুরী পাসপোর্ট ২ (দুই) কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান করা হবে। 

অতীব জরুরী পাসপোর্ট এর জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন ?

বাংলাদেশি যে কোন নাগরিক আবেদন করতে পারবেন। নতুন অতীব জরুরী ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে অনুকূল প্রাক-পুলিশ প্রতিবেদন প্রয়োজন হবে। তবে ২০১০ সাল থেকে ইস্যুকৃত এমআরপি (MRP) ব্যবহারকারী পূর্বের স্থায়ী ঠিকানার তথ্য অপরিবর্তনীয় রেখে আবেদন করলে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন হবে না। প্রাক-পুলিশ প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুণ ‘এখানে’

অতীব জরুরী পাসপোর্ট সেবাটির জন্য কোথায় আবেদন করতে হবে ?

বাংলাদেশের যেকোনো বিভাগীয়/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করা যাবে। এই সেবাটি বাংলাদেশ দূতাবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অতীব জরুরী পাসপোর্ট প্রদান/ডেলিভারি প্রক্রিয়া কি ? 

শুধুমাত্র আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস থেকে অতীব জরুরী পাসপোর্ট বিতরণ করা হবে।

ঠিকানা :

বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, ভবন নং – ২ই-৭, শের-ই-বাংলা নগর, আগারগাওঁ, ঢাকা-১২০৭।

যোগাযোগঃ +৮৮০২-৮১২৩৭৮৮ ।
বি.দ্রঃ বর্তমানে অতীব জরুরী (Super Express) সেবাটি শুধুমাত্র এমআরপি (MRP) পাসপোর্ট ধারীগণের স্থায়ী ঠিকানা অপরিবর্তিত রেখে ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে চালু আছে।  উক্ত সেবাটির আবেদন সকল অফিসে করা গেলেও পাসপোর্ট বুকলেট টি আগারগাওঁ অফিস(উল্লেখিত ঠিকানা ) থেকে সংগ্রহ করতে হবে।